সফিকুল ইসলাম, বরিশাল প্রতিনিধি : পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার ধুলিয়া ইউনিয়নের বর্তমান প্যানেল চেয়ারম্যান মো. জহিরুল ইসলাম জহিরের বিরুদ্ধে একটি মহলের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সচেতন মহল তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা নানা ভিত্তিহীন অভিযোগ ও মিডিয়া ট্রায়ালের মুখেও অত্যন্ত নমনীয় ও রাজনৈতিক সহনশীলতার পরিচয় দিয়েছেন প্যানেল চেয়ারম্যান জহিরুল ইসলাম নিজেই।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ধুলিয়া ইউনিয়নের রাজনীতি ও উন্নয়ন পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়।
তবে স্থানীয় এক শ্রেণির লোক তার কাজের সমালোচনা করলেও একটি বড় অংশ তার পাশে দাঁড়িয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা এমডি প্রিন্স অহিদ ফেসবুকে মন্তব্য করেন, প্যানেল চেয়ারম্যান জহির অন্যান্য অনেক জনপ্রতিনিধির মতো এলাকায় কোনো নিজস্ব ক্যাডার বা কিশোর গ্যাং সংস্কৃতি গড়ে তোলেননি এবং কোনো প্রকার ‘তাফালিং’ (উচ্ছৃঙ্খলা) প্রশ্রয় দেন না বলেই কুচক্রী মহল তার সরলতার সুযোগ নিয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে।
এদিকে, ইউনিয়নের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় প্যানেল চেয়ারম্যানের আন্তরিকতার প্রমাণ মিলেছে স্থানীয়দের বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পোস্টে।
সেখানে দেখা যায়, গভীর রাতেও তিনি স্থানীয় সমাজসেবক কুদ্দুস মোবাইল ও কাউসার কিস্তির মতো ব্যক্তিদের সাথে ফোনে যোগাযোগ রেখে ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের খোঁজখবর রাখছেন ও দায়িত্ব পালন করছেন।
প্যানেল চেয়ারম্যানের পাশে দাঁড়িয়ে ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ ও বিভিন্ন ওয়ার্ডের বাসিন্দারাও বর্তমান পরিস্থিতির নানা বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছেন।
৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. সোবাহান খা জানান, বর্তমানে এলাকায় অত্যন্ত সুন্দর ও শান্ত পরিবেশ বিরাজ করছে। এলাকার অভ্যন্তরীণ সার্বিক পরিস্থিতিতে কোনো ধরণের রাজনৈতিক জটিলতা বা কোনো অপ্রীতিকর দুর্ঘটনা ঘটেনি।
অন্যদিকে, সরকারি সুবিধা বিতরণ নিয়ে ওঠা অপপ্রচারের বিষয়ে বাস্তব চিত্র স্পষ্ট করেছেন ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মোহাম্মদ নাসির।
তিনি বলেন, প্রকৃত জেলেদেরই চাল সঠিকভাবে দেয়া হয়েছে। তবে তালিকায় নাম নেই এমন অনেক জেলেও এলাকায় রয়েছেন। তালিকাভুক্ত না থাকায় স্বভাবতই তাদের চাল দেয়া সম্ভব হয়নি। আর এই বিষয়টিকেই পুঁজি করে কিছু লোক উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর কথার সৃষ্টি করছে।
তার বিরুদ্ধে চলমান এই নেতিবাচক প্রচারণার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে বাউফল উপজেলার ধুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. জহিরুল ইসলাম জহির অত্যন্ত নমনীয় ও বাস্তবসম্মত এক বক্তব্য প্রদান করেন।
তিনি কোনো প্রকার আক্রমণাত্মক অবস্থান না নিয়ে ইউনিয়নের রাজনৈতিক বাস্তবতাকে তুলে ধরে বলেন, অনেকেই প্যানেল চেয়ারম্যানকে দোষ দেন, কিন্তু বাস্তব চিত্রটা ভিন্ন। যারা আগে ক্ষমতার সুবিধা ভোগ করত, তারা এখন হয়তো পারছে না। এখন আবার নতুন কিছু লোক সেই সুবিধা নেয়ার চেষ্টা করবে, এটাই চিরন্তন সত্য। যার দল যখন ক্ষমতায় ছিল, তখন সে সুবিধা নিয়েছে, এখনও সেই একই ধারা চলছে। তাই আমি জহির কাউকে এককভাবে দোষ দিতে চাই না।
তিনি বলেন, জনপ্রতিনিধিরা অনেক সময় রাজনৈতিক নেতাদের চাপে থাকেন, যার কারণে মন চাইলেও অনেক কিছু করা সম্ভব হয় না বলে আমি মনে করি। তবে এই কাদা ছড়াছড়ি বন্ধ করে আমাদের সকলের উচিত যার যার অবস্থান থেকে ধুলিয়া ইউনিয়নকে সুন্দরভাবে গড়ে তোলার মানসিকতা তৈরি করা।”
স্থানীয় সচেতন নাগরিক ও সাধারণ ভোটাররা প্যানেল চেয়ারম্যানের এই উদার ও গঠনমূলক বক্তব্যকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।
তাদের মতে, কোনো প্রকার হিংসাত্মক রাজনীতি বা কিশোর গ্যাংয়ের আশ্রয় না নিয়ে প্যানেল চেয়ারম্যান জহির যেভাবে সবাইকে সাথে নিয়ে ধুলিয়ার উন্নয়নে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন, তা একজন প্রকৃত জননেতার পরিচয় বহন করে। কুচক্রী মহলের মিথ্যা প্রোপাগান্ডা নস্যাৎ করে ধুলিয়ার সামগ্রিক উন্নয়নে সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করবেন বলেই আশাবাদ ব্যক্ত করেন স্থানীয় সর্বস্তরের জনগণ।