শামসুল হুদা লিটন, কাপাসিয়া, গাজীপুর : একজন মানবিক ডাক্তার শুধু রোগের চিকিৎসা করেন না, বরং রোগীর শারীরিক ও মানসিক কষ্টের প্রতি সর্বোচ্চ সহানুভূতিশীল হন।
তিনি রোগীর আর্থিক অবস্থা বিবেচনায় রেখে সাশ্রয়ী চিকিৎসা প্রদান করেন এবং প্রয়োজনে নিজের পকেট থেকে ওষুধ বা পরীক্ষার খরচ বহন করেন। তিনি রোগীর সাথে অত্যন্ত বন্ধুসুলভ আচরণ ও আন্তরিকতার মাধ্যমে রোগীদের ভেতর বেঁচে থাকার মনোবল ও নির্ভরতা তৈরি করেন।
সাধারণ ও প্রান্তিক রোগীকে আন্তরিকতার সঙ্গে সেবা দিয়ে থাকেন। তিনি নিজ কর্মস্থলে থেকে নিজ খরচে গরিব রোগীদের ওষুধ কিনে দেয়া ও বিনামূল্যে চিকিৎসা দেয়ার জন্য স্থানীয়দের কাছে অত্যন্ত প্রশংসিত হন। পরিচয়হীন মানুষের বিনামূল্যে চিকিৎসা ও দায়িত্ব নেয়ার মাধ্যমে এক অনন্য মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন যে সব চিকিৎসক তিনিই মানবিক ডাক্তার।
আর একজন মানবিক চিকিৎসকের এসব গুনাবলীর প্রায় সবগুলোই কাপাসিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হাবিবুর রহমান (শরীফ) এর মধ্যে বিদ্যমান রয়েছে বলে রোগী ও এলাকাবাসী মনে করেন।
কাপাসিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার মানবিকতায় আজ আবারো সুচিকিৎসা পেলেন ৬৫ বছরের বয়োবৃদ্ধা অসহায় ও দরিদ্র এক মহিলা।
আজ রবিবার সকালে কাপাসিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে এসে বয়োবৃদ্ধা দরিদ্র অসহায় এ মহিলা অন্যান্যদের মতোই আউট ডোরে ডাক্তারের সেবা নেয়ার জন্য বিশাল লম্বা লাইলে কুজো হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. হাবিবুর রহমান।
পরে তাকে তার কার্যালয়ে নিয়ে এসে তার হাল হিস্টোরি শুনে সম্পুর্ন বিনা টাকায় তার ঔষধ, পরীক্ষা নীরিক্ষা ও চিকিৎসার সুব্যবস্থা করেন।
এ বয়োবৃদ্ধা মহিলাটির নাম খোশেদা বেগম (৬৫)। তিনি তরগাঁও ইউনিয়নের দেওনা গ্রামের দাওয়াতুল হক দেওনা মাদ্রাসার পশ্চিমে মৃত সাইজুদ্দের স্ত্রী।
দীর্ঘ দিন যাবৎ তার স্বামী মারা যাওয়ায় তার সংসারে সবসময়ই অভাব অনটন লেগেই থাকে। এ কারণে চিকিসা গ্রহণ করা তাঁর পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়ে।
কাপাসিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হাবিবুর রহমান তার চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়ে তাকে যাবতীয় পরীক্ষা নীরিক্ষার পর সরকারী ঔষধের বাহিরে সকল ঔষধ তিনি নিজ অর্থে ক্রয় করে দিয়ে বলেন, এগুলো খাওয়া শেষ হলে তিনি যেন পুনরায় তার সাথে যোগাযোগ করেন। এ ধরণের মানবিক সেবার ঘটনা তাঁর পেশাগত জীবনের ডায়েরিতে অহরহ জমা রয়েছে।
ডাক্তার হাবিবুর রহমান কাপাসিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার দায়িত্বে থেকেও প্রায় প্রতিদিন আউট ডোরে এমন কি তার অফিসে বসে অন্যান্য ডাক্তারদের মতোই রুগী দেখেন বলে জানান এখানকার অনেক রুগি ও স্থানীয় লোকজন।
ডাক্তার হাবিবুর রহমান এখানে যোগদানের পূর্বে ডাক্তার আব্দুস সালাম ইউএইচএফপিও এর বদলীর পর মাঝখানের সময় টুকতে ডা. মামুনুর রহমান ইউএইচএফপিও থাকাকালীন সময়ে এ হাসপাতালের রুগীদের জন্য বিতরণের লাখ লাখ টাকার ঔষধ মেয়াদ উত্তীর্ণের ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ হয়।
বহুল আলোচিত এ ঘটনা প্রকাশ হওয়ার পর এ হাসপাতালের চিকিৎসা সেবার প্রতি সাধারণ মানুষের অনীহা দেখা দিলে বর্তমান এ মানবিক ইউএইচএফপিও ডা. মো. হাবিবুর রহমান এর ঐকান্তিক প্রচেষ্টার ফলে হাসপাতালের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা ফিরে আনতে অনেকটা সক্ষম হয়েছেন।
মানবিক ডাক্তার খ্যাত কাপাসিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. হাবিবুর রহমান (শরীফ) কাপাসিয়া উপজেলার সিংহশ্রী ইউনিয়নের কৃতি সন্তান। তিনি ছাত্র জীবনে অনেক মেধাবী ছাত্র হিসেবে এলাকায় ব্যাপক সুনাম ও সুখ্যাতি অর্জন করেন।
তিনি শিক্ষক পরিবারের সন্তান। তাঁর মা ও বাবা দুজনই জাতি গঠনের কারিগর। এক বোন শিক্ষকতার সাথে জড়িত। তাছাড়া তাঁর বাবা মরহুম তাজউদ্দিন মাষ্টার একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন।
ডাক্তার হাবিবুর রহমান এর বাড়ি ও কর্মস্থল কাপাসিয়া উপজেলায় হওয়ায় নিজ এলাকার সাধারণ মানুষের সেবা করার বাড়তি সুযোগ পেয়েছেন। তিনি এ মহান সুযোগকে মানবিক সেবার মাধ্যমে পুরোপুরি কাজে লাগিয়েছেন বলে সাধারণ মানুষ অভিমত ব্যক্ত করেছেন। এ কারণেই তাঁর সম্পর্কে মানুষের ধারণা ইতিবাচক ও প্রশংসনীয়।
কাপাসিয়ার বিশিষ্ট সমাজকর্মী ও সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট বি এম নাজিবুল হক শাহীন নামের এক ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন, কাপাসিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. হাবিবুর রহমান (শরীফ) এর বদলী হলো স্বাস্থ্য বিভাগের একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। বদলি একটি রুটিন কর্ম।
ডা. মো. হাবিবুর রহমান (শরীফ) এর চাকুরী যেহেতু সরকারি চাকুরী, তাই বদলী হওয়াই স্বাভাবিক। কিন্তু ডা. হাবিবুর রহমান (শরীফ) সম্পর্কে অতি সম্প্রতি কাপাসিয়ার কিছু অনলাইন মিডিয়ায় শতভাগ অসত্য নেতিবাচক সংবাদ প্রকাশ ও প্রচার অত্যন্ত দুঃখজনক এবং অনভিপ্রেত বটে।
তিনি আরো বলেন, ডা. হাবিবুর রহমান (শরীফ) শিক্ষক দম্পতির সন্তান। তিনি একজন খাঁটি দেশ প্রেমিক, মেধাবী, ভদ্র, বিনয়ী , ধর্মপ্রাণ ও শতভাগ সৎ মানুষ। তিনি কাপাসিয়া উপজেলার ১নং সিংহশ্রী ইউনিয়নের কপালেশ্বর গ্রামের ঐতিহ্যবাহী “প্রধান” বংশের কৃতী সন্তান। তাঁর মরহুম পিতা মো. তমিজ উদ্দিন প্রধান, দেশ ও জাতির একজন শ্রেষ্ঠ সন্তান অর্থাৎ রণাঙ্গনের বীর মুক্তিযোদ্ধা ও কাপাসিয়া উপজেলার আমরাইদ ইয়াকুব আলী সিকদার উচ্চ বিদ্যালয়ের একজন স্বনামধন্য প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক ছিলেন।
তার মাতা এমপিও ভুক্ত দাখিল মাদ্রাসার অবসরপ্রাপ্ত একজন স্বনামধন্য সিনিয়র শিক্ষিকা এবং তাঁর একমাত্র ছোট বোন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের স্বনামধন্য শিক্ষিকা।
তিনি প্রসঙ্গত উল্লেখ্য করে বলেন যে, গত রোজার ঈদের দিন মাননীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল আকস্মিকভাবে কাপাসিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পরিদর্শনে এসে হাসপাতাল ও কাপাসিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হাবিবুর রহমান এর প্রশংসা করেছেন।
আসমা নামের এক মহিলা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন “ডা. হাবিবুর রহমান (শরীফ) একজন অত্যন্ত ভালো ও সৎ মানুষ। আমি ব্যক্তিগতভাবে তাঁকে চিনি এবং তাঁর মানবিকতা ও নিষ্ঠার সাক্ষী। ভালো মানুষের শত্রুর অভাব নেই, এটাই বাস্তবতা। কারও মিথ্যাচার বা অপপ্রচারে তাঁর সম্মান ও গ্রহণযোগ্যতা কমবে না; বরং মানুষ সত্য আরও ভালোভাবে বুঝতে পারবে। কাপাসিয়ায় এমন অনেক মানুষ আছেন, যারা তাঁর সততা, কর্মনিষ্ঠা ও জনসেবার কথা জানেন। কিছু মানুষের স্বার্থে আঘাত লাগতে পারে, কারণ তিনি অন্যায় ও অপকর্মের সঙ্গে আপস করেন না। ডা. হাবিবুর রহমান শরীফ কাপাসিয়ার গর্ব, কাপাসিয়ার একজন গুণী সন্তান।”