কামাল খান, নিজস্ব প্রতিবেদক : সিলেটের গোলাপগঞ্জে সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে বেপরোয়া চাঁদাবাজি, জালিয়াতি এবং মানহানিকর সংবাদ প্রচারের এক ভয়াবহ অভিযোগ উঠেছে কথিত সাংবাদিক আব্দুল্লাহ আল মাসুদের বিরুদ্ধে।
নিজেকে ‘জিবি টেলিভিশন’-এর কর্মচারী পরিচয় দিয়ে তিনি উপজেলার বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান ও সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে ফেলেছেন বলে জানা গেছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, গত কয়েকদিন আগে গোলাপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করেন আব্দুল্লাহ আল মাসুদ।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এই অনৈতিক দাবি প্রত্যাখ্যান করলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। প্রতিশোধ নিতে তিনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ বানোয়াট মিথ্যা ও কুরুচিপূর্ণ হাসপাতালের পুরনো দিনের ছবি ব্যবহার করে সংবাদ প্রকাশ করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মাসুদ নিয়মিত হাসপাতালে গিয়ে টিআইসিকে (TIC) অপসারণের ভয় দেখিয়ে বিভিন্ন অজুহাতে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার চেষ্টা চালান। তার এই অপতৎপরতায় হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা ও উপজেলার ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ণ হচ্ছে।
ভুক্তভোগীদের তালিকায় রয়েছেন স্থানীয় সাংবাদিক খালেদ খানও। খালেদ খান জানান, মাসুদ তাকে ফোন করে ছবি ব্যবহারের মিথ্যা অজুহাতে চাঁদা দাবি করেন। খালেদ খান সেই দাবি অস্বীকার করলে মাসুদ নিজেকে ‘সাংঘাতিক’ প্রভাবশালী পরিচয় দিয়ে হুমকি প্রদান করেন।
এর পরদিনই তিনি খালেদ খানকে ‘চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিবাজ’ আখ্যা দিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও ব্লগে মিথ্যা নিউজ প্রচার করেন।
সাংবাদিক খালেদ খান বলেন, মিথ্যা নিউজ করে ডিবি টেলিভিশন নামের নিবন্ধনহীন অনলাইন মাধ্যমে।
গোলাপগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাথে যোগাযোগ করা হলে জানা যায়, আব্দুল্লাহ আল মাসুদ বর্তমানে প্রেসক্লাবের কোন সদস্য না।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আগে কয়েকবার ভুল তথ্য প্রকাশ ও চাঁদাবাজির দায় সাইবার ক্রাইমে মামলা হয়েছে তার বিরুদ্ধে।
মাসুদের সাংবাদিকতার দৌড় কতটুকু, তা সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফাঁস হওয়া কিছু স্ক্রিনশটে স্পষ্ট হয়েছে।
দেখা গেছে, সিলেটের স্বনামধন্য পত্রিকা ‘দৈনিক জৈন্তা বার্তা’ কোনো সংবাদ প্রকাশের মাত্র দুই ঘণ্টার মাথায় মামুন সেই সংবাদটি একটি শব্দও পরিবর্তন না করে হুবহু কপি করে নিজের নামে চালিয়ে দিচ্ছেন। নিজের নিউজ নিজে লেখার ন্যূনতম যোগ্যতা না থাকলেও তিনি ‘জাতীয় সাংবাদিক’ পরিচয়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন।
মামুনের এই ধারাবাহিক অপকর্মে গোলাপগঞ্জের সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
এলাকাবাসীর মতে, যারা কলমকে চাঁদাবাজির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে, তারা সমাজের শত্রু। বিশেষ করে বারকোটসহ পুরো উপজেলার সম্মান নিয়ে ছিনিমিনি খেলার অধিকার কারো নেই।
ভুক্তভোগী ও সচেতন মহল এই তথাকথিত সাংবাদিকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।
বিশেষ করে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন এবং চাঁদাবাজির অভিযোগে তার বিরুদ্ধে সুস্থ তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন তারা।