মো. রফিকুল ইসলাম নয়ন, গাইবান্ধা, জেলা প্রতিনিধি : পৌরসভার সীমানা শেষ হতেই যেন উন্নয়নের ছোঁয়াও শেষ! গাইবান্ধা সদর উপজেলার পৌরসভা ও বল্লমঝাড় ইউনিয়নের সংযোগকারী একটি গুরুত্বপূর্ণ কাঁচা রাস্তা এখন স্থানীয় হাজারো মানুষের জন্য এক চরম ভোগান্তির নাম।
দীর্ঘদিন ধরে রাস্তাটি সংস্কার বা পাকা না করায় সামান্য বৃষ্টিতেই এটি রূপ নেয় এক প্রকার নরককুণ্ডে। কাদা-পানিতে একাকার এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী এবং সাধারণ গ্রামবাসীরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, গাইবান্ধা সদর পৌরসভার শেষ সীমানা এবং বল্লমঝাড় ইউনিয়নের প্রবেশমুখে অবস্থিত ‘মহুয়া আইসক্রিম ফ্যাক্টরি’। এই ফ্যাক্টরির পেছন থেকে শুরু করে দারাজের বাড়ির সামন দিয়ে বল্লমঝাড় প্রধান সড়কের সংযোগস্থল পর্যন্ত প্রায় ৬০০ মিটারের এই সংযোগ রাস্তাটি সম্পূর্ণ কাঁচা। অথচ এই সামান্য দূরত্বের রাস্তাটি এলাকার যোগাযোগের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বর্তমানে বর্ষা মৌসুমের বৃষ্টিতে রাস্তাটির অবস্থা এতটাই বেহাল যে, পায়ে হেঁটে চলাই দায়, সেখানে কোনো যানবাহন ঢোকার প্রশ্নই ওঠে না।
পুরো রাস্তা জুড়ে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত আর হাঁটুপানি ও কাদার ভাগাড়।
স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “পৌরসভার একদম গা ঘেঁষে থাকা সত্ত্বেও বল্লমঝাড় ইউনিয়নের এই অংশটি চরম অবহেলিত। সামান্য একটু বৃষ্টি হলেই রাস্তাটি চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে। এই রাস্তায় আমাদের বাড়ি-ঘর, অথচ প্রতিদিন আমাদের বাধ্য হয়ে এই কাদা মাড়িয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। কোনো অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নেয়ার মতো জরুরি পরিস্থিতিতে এখানে কোনো রিকশা বা অ্যাম্বুলেন্স প্রবেশ করতে পারে না।”
সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। কাদা-পানি মাড়িয়ে জুতো-জামা নষ্ট করে তাদের স্কুল-কলেজে যেতে হচ্ছে। এছাড়া এলাকার কৃষিজীবী ও চাকরিজীবীদের যাতায়াতও স্থবির হয়ে পড়েছে এই বেহাল রাস্তার কারণে।
স্থানীয় ভুক্তভোগী জনগণের তীব্র দাবি, কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা ও অবহেলার কারণে আর কতদিন এভাবে কষ্ট ভোগ করতে হবে? এই নরকযন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে এবং গ্রামীণ অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে এই গুরুত্বপূর্ণ ৬০০ মিটার সংযোগ রাস্তাটি অবিলম্বে জরুরি ভিত্তিতে পাকা করার জন্য তারা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (LGED), বল্লমঝাড় ইউনিয়ন পরিষদ ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি এবং দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।