গাজীপুর মহানগরীর গাছা থানাধীন কুনিয়া বড়বাড়ী এলাকায় একটি গার্মেন্টস ফ্যাক্টরির সামনে ব্যবসায়ীকে দেশীয় অস্ত্রে সজ্জ্বিত হয়ে অবরুদ্ধ করে গাড়ি ভাঙচুর, মালামাল লুটপাট ও চাঁদা দাবির অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই ঘটনায় ৯ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২৫/৩০ জনকে আসামি করে গাছা থানায় একটি নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে। গত ১৭ জুন, ২০২৬ তারিখে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মো: মাসুদ রানা বাদী হয়ে এই মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বাদী মো: মাসুদ রানা পেশায় একজন ব্যবসায়ী, যিনি দীর্ঘদিন যাবৎ ‘এস.এম এন্টারপ্রাইজ’ নামক প্রতিষ্ঠানের নিকট থেকে ‘ঝুট’ ক্রয় করে আসছিলেন। গত ১৩ জুন, ২০২৬ তারিখ রাত আনুমানিক ০৮:৩০ ঘটিকায় কুনিয়া বড়বাড়ী সাকিনস্থ ‘বেস্টশার্ট গার্মেন্টস’ থেকে ঝুট লোড করে একটি ট্রাক (ঢাকা মেট্রো-ড-১১-১৬১৮) টঙ্গী মিলগেটের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। গাড়িটি গার্মেন্টসের মেইন গেটের সামনে পাকা রাস্তার ওপর পৌঁছানো মাত্রই পূর্ব পরিকল্পিতভাবে ওত পেতে থাকা আসামিরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র (যেমন: রামদা, ছেন, চাপাতি, লোহার রড) নিয়ে বে-আইনি জনতাবদ্ধে গাড়ির গতি রোধ করে।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ১নং আসামির প্রত্যক্ষ হুকুমে অন্যান্য আসামিরা গাড়ির ওপর অতর্কিত আক্রমণ চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করে এবং গাড়িতে থাকা মালামালের ক্ষতিসহ আনুমানিক ২০,০০০/- (বিশ হাজার) টাকার আর্থিক ক্ষতিসাধন করে। এরপর তারা ব্যবসায়ীর নিকট নগদ ২,০০,০০০/- (দুই লক্ষ) টাকা চাঁদা দাবি করে হুমকি প্রদান করে। চাঁদা না দিলে গাড়ি যেতে দেওয়া হবে না এবং ঝুটসহ গাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হবে বলে ভীতি প্রদর্শন করা হয়। পরবর্তীতে ভুক্তভোগীদের ডাক-চিৎকারে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে আসামিরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
মামলার প্রধান আসামিরা হলেন, ১. মো: নাসির উদ্দিন সরকার রুবেল (৩৮), ২. হামিদুল রহমান (৩৮), ৩. আশরাফুল হোসেন (৩৫), ৪. আশরাফুল ইসলাম মোল্লা (৩২), ৫. মো: জিয়া উদ্দিন জিয়া (৩৫), ৬. মিজানুর রহমান মিজান (৪৫), ৭. মো: বাবু (২৮), ৮. মো: ইব্রাহিম (৩০), ৯. মো: আহাদ মিয়া (২৫)। এছাড়াও মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ২৫/৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
গাছা থানার মামলা নং- ২৯/২১৭। পেনাল কোডের ১৪৩/৩৪১/৩৮৫/৪২৭/৫০৬/১১৪/৩৪ ধারায় মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়েছে। মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে থানা কর্তৃপক্ষ জানায়, সাব-ইন্সপেক্টর (নিরস্ত্র) মো: মামুনুর রশিদ-কে মামলাটির তদন্তভার প্রদান করা হয়েছে এবং আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।